Skip to main content

প্রশ্নোত্তরঃ আরবদেশকে 'জাজিরাতুল আরব' বলা হয় কেন? অথবা 'জাজিরাতুল আরব' বলা হয় কোন দেশকে এবং কেন?

ভূমিকাঃ ইসলামের জন্মভূমি আরব এশিয়ার দক্ষিণপশ্চিম ভাগে অবস্থিত পৃথিবীর প্রাচীনতম বৃহত্তম উপদ্বীপ। 'জাজিরাতুল আরব' নামে খ্যাত এ আরবভূমির অবস্থানও ভৌগোলিক দিক দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে জন্ম নিয়েছে বিশ্বের একাধিক সভ্যতা। ইসলাম ধর্মের তীর্থস্থান এবং মহানবী (স) এর জন্মভূমি হিসেবে আরব উপদ্বীপের এবং তাৎপর্য  অনেক।
'জাজিরাতুল আরব' বলার কারণঃ তিন দিক সাগর এবং একদিক স্থল দ্বারা পরিবেষ্টিত বলে একে আরব উপদ্বীপ বলা হয়। এ কারণে এদেশকে আরবি ভাষায় 'জাজিরাতুল আরব' বলে অভিহিত করা হয়। জাজিরা শব্দ অর্থ উপদ্বীপ বা উপকূল।
আরবভূমিকে 'জাজিরাতুল আরব' বলার পিছনে যে কয়েকটি কারণ দাড় করানো যায় তা নিম্নরূপঃ
১. অর্থে দিক থেকেঃ জাজিরাতুল আরব শব্দের অর্থ আরব উপদ্বীপ। আরব উপদ্বীপ বলতে বুঝায় তিন দিকে জলরাশি দ্বারা বেষ্টিত স্থলভাগকে। সুতরাং অর্থ গত দিক থেকে এটিকে 'জাজিরাতুল আরব' বলা হয়।
২. ভূখণ্ডের দিক থেকেঃ আরবের তিনদিকে জল এবং এক দিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত বলে আরববাসীরা একে 'জাজিরাতুল আরব' বা আরব উপদ্বীপ বলে অভিহিত করেছে। এটি এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা এ তিনটি মহাদেশের সংযোগ স্থলে অবস্থিত।
৩. জনবসতির দিক থেকেঃ জনবসতির দিক থেকে আরবরা  নিজেদের ভূখণ্ডকে 'জাজিরাতুল আরব' বলে থাকে।
উপসংহারঃ আল্লাহর অফুরন্ত রহমতে উৎসভূমি হিসেবে আরবদেশ পৃথিবীর তিনটি মহাদেশের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হয়ে অতিসহজে সারা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিন দিকে জল দ্বারা পরিবেষ্টিত স্থল হওয়ার কারণে এ অঞ্চল 'জাজিরাতুল আরব' নামে খ্যাত।

Comments

Popular posts from this blog

প্রশ্নোত্তরঃ আইয়ামে জাহেলিয়া বলতে কি বুঝ? অথবা, আইয়্যামে জাহেলিয়া কি?

ভূমিকাঃ ইসলামের আবির্ভাব মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ইসলাম পূর্ব আরবের সামাজিক জীবন অনাচার, কুসংস্কার, নিষ্ঠুরতা ও নানা পাপাচারে পরিপূর্ণ ছিল। ঐ সময়ে আরবে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা বিদ্যমান ছিল। এ বিশৃঙ্খলা অবস্থাকে 'আইয়ামে জাহেলিয়া যুগ' বলা হয়েছে। আইয়ামে জাহেলিয়াঃ  ইসলাম পূর্ব যুগকে সাধারণভাবে 'আইয়ামে জাহেলিয়া'  বা অন্ধকার যুগ বলা হয়। আরবি ভাষায় 'আইয়াম' শব্দের অর্থ যুগ বা সময় এবং 'জাহেলিয়া' অর্থ অন্ধকার যুগ, কুসংস্কার, অজ্ঞাত ইত্যাদি। সুতরাং আইয়ামে জাহেলিয়া বলতে অজ্ঞতার যুগ বা অন্ধকার যুগ  বুঝায়। সে যুগে আরবে কোন প্রকার কৃষ্টি, ধর্মগ্রন্থ ও ধর্মীয় চেতানা ছিল না। তবে প্রকৃত পক্ষে ইসলাম পূর্ব আরবীয়দের অজ্ঞ বলে অবহেলা করা যায় না। অজ্ঞ এই অর্থে বলা হয় সে যুগে আরবে কোন ধর্মপ্রচারক, সমাজসংস্কারক, শান্তি স্থাপনকারী ছিল না এবং আল্লাহ সম্পর্কে তারা অজ্ঞ ছিল। আইয়ামে জাহেলিয়ার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে ঐতিহাসিক পি.কে. হিট্টি বলেন, " আইয়ামে জাহেলিয়া বলতে এমন একটি সময়কাল কে বুঝায়, যখন আরবে কোন বিধিবিধান ছিল না, কোন ধর্মপ্রচারক ছিল না, কোম ধর্মগ্রন্থ ছিল না।...

প্রশ্নোত্তরঃ উকাজ মেলা সম্পর্কে যা জানো লিখ। অথবা, উকাজ মেলা সম্পর্কে আলোচনা কর। অথবা, উকাজ মেলা কি?

ভূমিকাঃ  আরবদের মধ্যে যে সাহিত্যচর্চা প্রচলিত উকাজের মেলা তারই প্রকৃষ্ট উদাহরণ। প্রাচীন আরবের কবিরা মক্কার অদূরে উকাজের বাৎসরিক মেলায় কবিতা পাঠের প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করতেন। সেখানে নাচাগান, নানাপ্রকার খেলাধুলা, ঘোড়দৌড় ও উঠের দৌড়ের প্রতিযোগিতা হতো। অন্যদিকে, প্রতি বছর এ মেলায় কবিতা পাঠের প্রতিযোগিতা হতো। কথিত আছে, উকাজের মেলায় পুরস্কার প্রাপ্ত সাতটি কবিতা সোনালি অক্ষরে লিপিবদ্ধ করে কাবার দেয়ালে ঝুলিয়ে দেয়া হতো। একে আরবিতে 'সাব আল মুয়াল্লাকা' বলা হতো। উকাজ মেলাঃ  প্রাক ইসলামি যুগে গীতিকাব্য রচনা ও সাহিত্য চর্চায় আরবদের বিস্ময়কর সৃজনশীল শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। গীতিকবিতা বা কাসিদা ছিল প্রাচীন আরব সংস্কৃতির অন্যতম সম্পদ। ঐতিহ্যবাহী হিট্টি বলেন, "কাব্য প্রীতিই ছিল বেদুইনদের সাংস্কৃতিক সম্পদ।" সে যুগে আরবদের মধ্যে যে সাহিত্য চর্চা প্রচলিত ছিল, উকাজের মেলা এর একটি উৎকৃষ্ট প্রমাণ। প্রতি বছর এ মেলায় কবিতা পাঠের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। এ  সাহিত্য সভায় কাব্য চর্চার দ্বারা সংশ্লিষ্ট কবিগণ নিজেদের কৃতিত্ব প্রকাশ করতেন। বৎসরে সেরা কবিতা গুলোকে মিশরের লিলেন কাপড়ের উপর লিখে কা...

প্রশ্নোত্তরঃ মদিনা সনদের পাঁচটি শর্ত লিখ। অথবা, মদিনা সনদের উল্লেখযোগ্য পাঁচটি ধারা লিখ।

ভূমিকাঃ  ইসলামের ইতিহাসে মদিনা সনদের  গুরুত্ব ও তাৎপর্য ব্যাপক। মদিনায় বসবাসরত সম্প্রদায়সমূহের মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য মহানবী (স)  ৬২৪ খ্রি. লিখিত যে চুক্তিভবা সনদ প্রণয়ন করেন তা মদিনা সনদ। এই সনদের মাধ্যমে মদিনার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা ও সমঝোতার ভিত্তিতে ধর্মীয় সহিষ্ণুতার নীতিও গৃহীত হয়।  মদিনা সনদের পাঁচটি উল্লেখযোগ্য ধারাঃ  মদিনা সনদে মোট ৪৭টি ধারা বা শর্ত ছিল। পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম লিখিত সনদ হিসেবে এর গুরুত্ব অপরিসীম। নিম্নে মদিনা সনদের পাঁচটি উল্লেখযোগ্য ধারা লিপিবদ্ধ হলোঃ ১.  মদিনা সনদে স্বাক্ষরকারী সম্প্রদায়সমূহ (ইহুদি, খ্রিস্টান, পৌত্তলিক ও মুসলমান) সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করবে এবং সকলে মিলে সাধারণ জাতি গঠন করবে। ২.  হযরত মুহাম্মদ (স) নবগঠিত প্রজাতন্ত্রের সভাপতি এবং পাদাধিকার বলে মদিনার সর্বোচ্চ বিচারালয়ের প্রধান হবেন। ৩.  পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় থাকবে। মুসলমান ও অমুসলমান সম্প্রদায় স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবে। ৪.  স্বাক্ষরকারী কোন সম্প্রদায়কে বহিঃশত্রু আক্রমণ করলে সকল সম্প...